শীতকালে হঠাৎ ঘামতে শুরু করলে অনেকেই ভাবেন, গরম বা শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া এমন হওয়া স্বাভাবিক নয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঠাণ্ডা আবহাওয়াতেও অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার পেছনে শরীরের ভেতরের নানা কারণ কাজ করতে পারে।
শীত, গ্রীষ্ম বা বর্ষা—যে কোনো ঋতুতেই অস্বাভাবিক ঘাম দেখা দিতে পারে। এটি শুধু আবহাওয়ার কারণে নয়, অনেক সময় মানসিক চাপ, হরমোনের পরিবর্তন বা কিছু শারীরিক সমস্যার ফলেও হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গুরুত্বপূর্ণ কোনো মিটিং বা পরীক্ষা বা মানসিক চাপের পরিস্থিতিতে হঠাৎ হাত-পা বা মুখে ঘাম দেখা দিতে পারে। এটি মূলত শরীরের ‘ফাইট বা ফ্লাইট’ প্রতিক্রিয়া। এ সময় স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়, যা ঘামের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, প্রিমেনোপজ বা মেনোপজের সময় নারীদের মধ্যে হঠাৎ ঘাম আসা বা রাতে অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়ার ঘটনা বেশ সাধারণ। এটি হরমোনের ওঠানামার ফল। মজার বিষয় হলো, হরমোনজনিত ঘামের লক্ষণ অনেক সময় স্ট্রেসজনিত ঘামের মতোই মনে হয়। তাই কোনটি মানসিক চাপ থেকে এবং কোনটি হরমোন পরিবর্তনের কারণে হচ্ছে—তা বোঝা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতে বারবার ঘাম হওয়া যদি এতটাই হয় যে জামা বা বিছানার চাদর বদলাতে হয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। এর পেছনে সংক্রমণ, হরমোনজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা থাকতে পারে।
রাতে ঘামের সঙ্গে যদি জ্বর, দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি বা শরীর ভেঙে যাওয়ার অনুভূতিও থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে, যেমন—পেইনকিলার, অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি বা অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ওষুধ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সবচেয়ে নিরাপদ পথ। শরীরের এই সংকেতগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা এবং সময়মতো চিকিৎসা নেওয়াই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়