ইরানের শাসনব্যবস্থাকে নতিস্বীকার করাতে পাঁচ সপ্তাহের হামলা চালিয়েও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়ে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতের মধ্যে ‘গ্রহণযোগ্য’ প্রস্তাব না এলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও সেতুগুলো ধ্বংস করা হবে।
সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের পর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালানো হবে এবং অল্প সময়েই বড় ধরনের ক্ষতি করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা এই হুমকিকে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন। তবে এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ হবে কি না—তা নিয়ে পেন্টাগন-এর ভেতরেও সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে ইস্পাহানে ভূগর্ভস্থ ইউরেনিয়াম মজুদ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, কুর্দি গোষ্ঠীর সহায়তায় ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের তেল সম্পদ অক্ষত রাখার পূর্ব পরিকল্পনাও এখন পরিবর্তনের মুখে।
এরই মধ্যে আসালুয়েহ অঞ্চলের একটি বড় পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেছেন, এতে ইরানের অর্থনীতিতে বড় আঘাত লেগেছে।
ট্রাম্পের শর্তগুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়টিও রয়েছে। বর্তমানে এই রুটে চলাচল নিয়ে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গেছে।
এদিকে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক রবার্ট পেপ বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা অনেক সময় জনগণের প্রতিরোধ মনোভাব আরও বাড়িয়ে দেয়।
পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সেনা উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত মেরিন ও এয়ারবর্ন ইউনিট মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক পথের বদলে সামরিক কৌশলেই বেশি জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়