
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে আজ রাতেই নতুন করে কঠোর সামরিক অভিযান চালাতে পারে মার্কিন বাহিনী।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, “আমি শুধু একটি আগাম সতর্কবার্তা দিচ্ছি—আজ রাতেই আমরা তাদের (ইরান) ওপর খুব কঠিন আঘাত হানতে যাচ্ছি।”
এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গত মাসে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে চায় না, তবে দেশটিকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
তার ভাষায়, “আমাদের চুক্তির অধীনে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে আদৌ কোনো চুক্তি হবে কি না, তা জানি না। প্রয়োজন হলে চুক্তি ছাড়াই আমরা এগোব।”
ইরানের আলোচক দলের সমালোচনা করে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আলোচনা নিয়ে তারা মিথ্যা তথ্য দিয়েছে এবং প্রতারণা করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের সময় হামলা না চালানোর জন্য ইরানের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
ট্রাম্প বলেন, “তারা বিরতি চেয়েছিল। তারা খামেনির জানাজায় যেতে চেয়েছিল। তারা অনুরোধ করেছিল যেন আমরা তাদের হত্যা না করি, আর আমি বলেছিলাম—আমরা তোমাদের হত্যা করব না।”
এর আগে মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সিরিক, বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপসহ ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়।
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা সীমিত। নতুন করে সামরিক হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা