জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ গঠিত তদন্ত কমিটি বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। রোববার পরিষদে এসে কমিটির সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন জমা দেন।
তদন্ত কমিটির প্রধান, সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান জানান, তারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তবে প্রতিবেদনে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা কাউকে দোষারোপ করিনি। নির্বাচন সংক্রান্ত যে তথ্য পেয়েছি, সেটিই নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরেছি। বিস্তারিত জানতে হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হবে।”
গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠায় গত মাসে পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।
কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন—যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সেলিম ফারুক, ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান এবং আইনজীবী ব্যারিস্টার সালেহ আকরাম।
তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়াকে ডাকা হলেও তিনি কমিটির সামনে হাজির হননি। এ বিষয়ে কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাকে আলোচনার জন্যই ডাকা হয়েছিল, অভিযুক্ত করার জন্য নয়।
অন্যদিকে সামাজিক মাধ্যমে আসিফ মাহমুদ জানান, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের এ তদন্তের এখতিয়ার নেই। এছাড়া বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় তিনি তদন্তে অংশ নেননি।
উল্লেখ্য, বিসিবি নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালসহ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে অনিয়ম ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ান। নির্বাচনের পর ঢাকার বেশিরভাগ ক্লাবও বোর্ডের কার্যক্রম থেকে নিজেদের বিরত রাখে।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ করতে এবং বিসিবির গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য কিছু সুপারিশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়