সরকার গঠনের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর বনানীস্থ টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। সকাল সাড়ে দশটায় অনুষ্ঠানে প্রবেশ করে তিনি উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মঞ্চে তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
মন্ত্রী পরিষদের সদস্যসহ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। এরপর বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ পরিবেশন করা হয়, যেখানে প্রধানমন্ত্রীসহ সকলেই হাতে হাত মিলিয়ে তাল মেলান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ সচিব ড. আবু ইউসুফ।
এর আগে সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পাইলট পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সাধারণত ৫ জন সদস্যের জন্য ১টি কার্ড দেওয়া হবে, তবে বড় বা যৌথ পরিবারের ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে কার্ড সংখ্যা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে উপকারভোগীরা মাসিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। পরবর্তীতে ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা প্রদানের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭,৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন ও জীবনযাত্রার মান যাচাই করে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে “প্রক্সি মিনস টেস্ট” (পিএমটি) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে ডাবল ডিপিং (একাধিক ভাতা), সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগীদের বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭,৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডগুলো আধুনিক ও নিরাপদ। এতে স্পর্শবিহীন চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতিতে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগী নারীর ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে, যাতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা অর্থ লোপাটের সুযোগ থাকে না।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কিছু কঠোর নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক হলে, কিংবা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ও বিলাসবহুল সম্পদ থাকলে সেই পরিবার সুবিধার আওতায় আসবে না।
চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এই পাইলট প্রকল্পের জন্য মোট ৩৮.০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬.০৬ শতাংশ অর্থ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে, এবং বাকি অংশ কার্ড তৈরি ও সিস্টেম উন্নয়নে ব্যয় হবে। বিস্তারিত গাইডলাইন ইতোমধ্যেই সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.msw.gov.bd) আপলোড করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৩ সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি পরিবারে তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি দফতরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ দেশের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়