
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন—বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবিএম সাইফুল ইসলাম ও সহকারী শিক্ষিকা জেসমিন আক্তার। রোববার (৩০ আগস্ট) পৃথক দুটি আদেশে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব।
বরখাস্তের আদেশে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের নৈতিক স্খলন এবং তাদের অশালীন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন বিধি অনুযায়ী তারা খোরপোশ ভাতা পাবেন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে ওই দুই শিক্ষকের কথিত অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে তদন্ত করা হয়। পরে এবিএম সাইফুল ইসলামকে ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে দূরবর্তী বালুচরা সমাজকল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং জেসমিন আক্তারকে ডহরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তবে কাগজপত্রে তাদের মূল কর্মস্থল ভোলা বাদশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই রয়েছে।
২০২৬ সালের আগস্টের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের একটি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও করা হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলাকালে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে ওই দুই শিক্ষক অবস্থান করছিলেন এবং সে সময় ভিডিওটি ধারণ করা হয়।
তবে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পেছনে চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ৮-৯ মাসে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসের তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছিল। তাদের অভিযোগ, দাবিকৃত চাঁদার টাকা না দেওয়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভিডিওটি নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) ইশরাত নাসিমা হাবীব বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় এবং এতে প্রাথমিক শিক্ষার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলছে। তদন্ত শেষে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।