ঢাকাসহ সারা দেশে জেঁকে বসেছে শীত। হিমেল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডায় জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে থাকায় দেশের বহু এলাকায় সূর্যের দেখা মিলছে না। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু ও বৃদ্ধরা। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৯ হাজার ৪২৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ভর্তি রোগীদের মধ্যে—
ডায়রিয়া নিয়ে ভর্তি: ৫৫ হাজার ৬৮৩ জন
শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ নিয়ে ভর্তি: ২৩ হাজার ৭৪৬ জন
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের কোথাও শৈত্যপ্রবাহ না থাকলেও আরও কয়েকদিন কুয়াশার প্রকোপ থাকবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেলে আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন,
“কোথাও শৈত্যপ্রবাহ নেই, তবে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় এবং কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলায় শীত অনেক বেশি অনুভূত হচ্ছে। এই তীব্রতা ও কুয়াশার দাপট আরও কয়েকদিন থাকবে।”
তিনি জানান, সোমবার ভোরে ঢাকার—
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ১৩.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ১৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস
অর্থাৎ সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য ছিল মাত্র ১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সাধারণত এই পার্থক্য ৫ ডিগ্রি বা তার নিচে নামলে শীত বেশি অনুভূত হয়। তার ওপর ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো না পাওয়ায় ভূমি গরম হতে পারছে না, ফলে শীতের অনুভূতি আরও বেড়ে যাচ্ছে।
সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায়—
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: কিশোরগঞ্জের নিকলিতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস
সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: টেকনাফে ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়