
আগামী নভেম্বরের মধ্যেই পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার আশা করছে সরকার। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে রূপপুর প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এ সময় কমিটির সভাপতি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পরে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে উপস্থাপিত তথ্যে জানানো হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে প্রাথমিক ফিজিক্যাল ও ক্রিটিক্যালিটি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আগামী নভেম্বরের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ইউনিটে ফুয়েল লোডিং বা রিঅ্যাক্টর চালুর প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পটির নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র তৃতীয় প্রজন্মের আধুনিক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এর বিভিন্ন ধাপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেও প্রকল্পটি সঠিক পথে রয়েছে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের সুবিধা জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং দেশের প্রথম গবেষণা জাহাজ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের আগ্রহ বাড়াতে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিজ্ঞান মেলার আয়োজনের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে কাজে লাগিয়ে বিদেশে রপ্তানি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামসহ সংসদ সদস্য এ জেড এম রেজওয়ানুল হক, মো. আনোয়ারুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী, কে এম বাবর, সানসিলা জেবরিন, সালাহ উদ্দিন, মারদিয়া মমতাজ ও মো. আব্দুল গফুর অংশ নেন।
এ ছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।