বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশকে নতুন করে ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই অনুমতির মেয়াদ ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়ে আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই ছাড়ের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে নতুন চুক্তি করে পরিশোধিত জ্বালানি, বিশেষ করে ডিজেল আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এর আগে মার্চ মাসে দেওয়া ৩০ দিনের ছাড়টি শুধুমাত্র পথে থাকা চালানের জন্য প্রযোজ্য ছিল, ফলে বাংলাদেশ তেমন কোনো বাস্তব সুবিধা পায়নি। তবে এবারের ৬০ দিনের অনুমতিতে নতুন করে আমদানি কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (Bangladesh Petroleum Corporation) সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটি প্রথম ধাপে একটি মার্কিন কোম্পানির মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা দেয়। এই পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া থেকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ।
এ লক্ষ্যে জ্বালানি বিভাগ যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়ে রাশিয়ার উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির অনুমতি চায়। ওই চিঠিতে বলা হয়, এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সহযোগিতা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (MoU) চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে রুশ উৎস থেকে অন্তত ১০ লাখ টন ডিজেল আমদানির সুবিধার্থে কমপক্ষে দুই মাসের জন্য বিশেষ ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে আরও বলা হয়, পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে বিপিসি একটি মার্কিন কোম্পানির সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করছে।
এদিকে ঢাকায় অবস্থানরত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে জ্বালানি সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।
বিপিসি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বিশেষ অনুমতি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এবং বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা আরও গভীর করার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখা।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়