আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার হজ ব্যবস্থাপনা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব করতে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর যারা পবিত্র হজ পালন করতে যাবেন, তাদের জন্য খরচ আরও কমানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা চেষ্টা করছি আরও ভালো কিছু করার। যাতে আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের কষ্ট কম হয় এবং তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে হজ পালন করতে পারেন।” তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরে দায়িত্ব গ্রহণের সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি, তবে সীমিত সময়ের মধ্যেও কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সরকার গঠন করেছি ১৮ ফেব্রুয়ারি। অথচ এ বছরের হজের অধিকাংশ প্রস্তুতি ফেব্রুয়ারির শুরুতেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফলে দায়িত্ব নেওয়ার পর খুব বেশি কিছু করার সুযোগ আমাদের ছিল না। তারপরও আমরা চেষ্টা করেছি যতটুকু সম্ভব উন্নয়ন আনার।” এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকারের প্রচেষ্টায় চলতি বছর হজের খরচ প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে, যা হজযাত্রীদের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।
হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খরচ কমানোই নয়, বরং পুরো প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সহজ করার দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে নিবন্ধন, ভিসা প্রক্রিয়া, বিমান ব্যবস্থাপনা এবং সৌদি আরবে অবস্থানকালীন সেবা—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়ন আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো হজযাত্রাকে আরও নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও সম্মানজনক করা।”
হজযাত্রীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের জন্য দোয়া করবেন, যাতে দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে।” একই সঙ্গে তিনি হজযাত্রীদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদে দেশে ফিরে আসার জন্য দোয়া করেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রীসহ উপস্থিত অন্যরা হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এই দোয়া-মোনাজাতে হজযাত্রীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও উপস্থিত অতিথিরাও অংশগ্রহণ করেন। পুরো পরিবেশ ছিল অত্যন্ত ধর্মীয় ও আবেগঘন।
উদ্বোধনের অংশ হিসেবে প্রথম হজ ফ্লাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফ্লাইটে থাকা যাত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও তাদের উদ্দেশে শুভকামনা জানান। এরপর তিনি ফ্লাইট থেকে নেমে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ হয়ে বাইরে এসে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে খরচ কমানো গেলে আরও বেশি মানুষ হজ পালনের সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হজ ব্যবস্থাপনায় খরচ কমানোর পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে। এর মধ্যে বিমান ভাড়া নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ব্যয় কমানো এবং সরকারি তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সেবা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সীমিত সময়ের মধ্যেও চলতি বছরে কিছুটা খরচ কমানো এবং আগামী বছর আরও বড় পরিসরে তা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি—দুটিই হজযাত্রীদের জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকারের এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা সফল হলে ভবিষ্যতে হজযাত্রা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হয়ে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে।