কয়েক সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পর কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে সমুদ্রপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ ছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যায়। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটটি দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়ে থাকে, তাই এর বন্ধ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছিল।
তবে প্রণালিটি পুনরায় চালু হওয়ার ঘোষণার পর বাজারে দ্রুত ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীরা তেলের মজুত ছেড়ে দিতে শুরু করেন, যার ফলে দামে বড় পতন ঘটে।
আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে কোটি কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়। ফলে এটি চালু থাকা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলছেন, প্রণালিটি খুলে যাওয়ার ফলে জ্বালানি সংকট দ্রুত কমে আসবে এবং বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। এর প্রভাব উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও পড়বে, যেখানে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা বেশি।
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালির পুনরায় চালু হওয়া বিশ্ব জ্বালানি বাজারে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে এবং সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা জোরালো করেছে।