নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় যৌথ বাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে অস্ত্রসহ এক কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া এবং পুলিশ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের মধ্য মাইজছরা এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় তাকে ধরতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারি চালিয়ে আসছিল।
অভিযানে আটক ব্যক্তি মহিবুল্লাহ, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘মফুইল্ল্যা চোরা’ নামে পরিচিত। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন সময়ে চুরি, ডাকাতি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধ সংঘটিত করে আসছিল। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা মধ্য মাইজছরা এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে মহিবুল্লাহকে আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার বাড়ি থেকে ২টি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো স্থানীয়ভাবে তৈরি হলেও তা দিয়ে সহজেই গুরুতর অপরাধ সংঘটিত করা সম্ভব। এসব অস্ত্র বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আটককৃত মহিবুল্লাহর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে অস্ত্র সংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, হাতিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসী, চোরাচালানকারী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা যৌথ বাহিনীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালিত হলে এলাকায় অপরাধ অনেকাংশে কমে আসবে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহিবুল্লাহর মতো সন্ত্রাসীদের কারণে এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছিল। তার গ্রেপ্তারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, আটককৃত ব্যক্তি এবং উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে, যাতে তার সহযোগীদের সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যায় এবং অপরাধ চক্রটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়।
এদিকে, কোস্ট গার্ড ও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযানে জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, হাতিয়ায় এই সফল অভিযানের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এলাকায় অপরাধ দমনে নতুন গতি আসবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।