1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৬ অপরাহ্ন

দিনাজপুর মেডিকেলে কর্মবিরতি শেষে কাজে ফিরলেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

মোঃ আকমল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ টানা তিন দিনের কর্মবিরতি শেষে কাজে ফিরেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকাল থেকে তারা ধাপে ধাপে নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান শুরু করেন।

এর আগে একই দিন দুপুরে হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, হাসপাতালের সার্বিক সেবা কার্যক্রম সচল রাখতে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিচালক জানান, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ রেফারেল কেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন প্রায় ১২০০ থেকে ১৩০০ রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহির্বিভাগে আরও প্রায় এক হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। ৫০০ শয্যার বিপরীতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীরা নিরলসভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে প্রায় ১৮টি বিভাগ চালু রয়েছে। প্রতিটি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও পর্যাপ্ত মেডিকেল অফিসার না থাকায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। ফলে চিকিৎসাসেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

ডা. ফজলুর রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অনেক সময় স্বজনদের সঙ্গে চিকিৎসক ও নার্সদের বিরোধ তৈরি হচ্ছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি দিনাজপুরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সহযোগিতা, শৃঙ্খলা ও সম্মানজনক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানান।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা জোরদারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে প্রতিদিন বিকাল ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত নির্ধারিত ভিজিটিং আওয়ার চালু করা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন দুপুর ২টা পর্যন্ত শুধুমাত্র গেট পাসধারীদের হাসপাতালে প্রবেশের অনুমতি থাকবে।

প্রতিটি রোগীর বিপরীতে সর্বোচ্চ দুইজন দর্শনার্থীর জন্য দুটি গেট পাস দেওয়া হবে এবং প্রতিটি গেট পাসের বিপরীতে নির্ধারিত জামানত রাখা হবে, যা রোগী ছাড়পত্রের সময় ফেরত দেওয়া হবে। নারী ও শিশু ওয়ার্ডে রাতে কোনো পুরুষের অবস্থান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি র‌্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যদের আরও সক্রিয় করা হচ্ছে।

এছাড়া প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে নিয়মিত সান্ধ্যকালীন রাউন্ড চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করা যায়।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এসব সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালের পরিবেশ আরও শৃঙ্খলাবদ্ধ, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব হয়ে উঠবে।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!