যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ–এ এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচনাকে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা রোববারের মধ্যেই ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন বলে ইরানের একটি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে শনিবার অনুষ্ঠিত প্রাথমিক আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে না পারলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আবারও সংলাপে বসতে সম্মত হয় দুই দেশ। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজতে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পটভূমিতে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাত। টানা প্রায় ৪০ দিনের সংঘর্ষের পর গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইসরায়েলও ওই সমঝোতা মেনে নেয় এবং সেদিন থেকেই ইরানে হামলা বন্ধ করে।
পরবর্তীতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা শুধু দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠককে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের নতুন মোড় ঘোরানোর একটি সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।