1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন

বগুড়ায় ই-বেইলবন্ড সিস্টেম উদ্বোধন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬

বগুড়ায় ‘ই-বেইলবন্ড’ বা ইলেক্ট্রনিক জামিননামা সিস্টেমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা না পায়, সে জন্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি আইনজীবী সমিতির নবনির্মিত ভবনেরও উদ্বোধন করেন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বগুড়াসহ সাত জেলায় ই-বেইলবন্ড সিস্টেম চালু হয়েছে। নতুন এই পদ্ধতিতে জামিন প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে আদালত থেকে জেলখানায় পৌঁছাতে আইনজীবী, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশসহ বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এতে সময়ক্ষেপণ ও ভোগান্তি তৈরি হতো। কিন্তু ই-বেইলবন্ড চালুর ফলে এখন খুব অল্প সময়ের মধ্যেই জামিননামা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এই পদ্ধতিতে একজন বিচারক সরাসরি অনলাইনে জামিন আদেশ কারা প্রশাসনের কাছে পাঠাতে পারবেন। ফলে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তি দ্রুত মুক্তি পাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের তৎপরতা বা জালিয়াতির সুযোগ কমে যাবে।

বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বয় না হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। সামাজিক ভারসাম্য, সমতা ও অধিকার নিশ্চিত করতে ন্যায় প্রতিষ্ঠা আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিচার ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করতে কাজ করছে। ভবিষ্যতে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমকে পুলিশের সিডিএমএস, আদালতের কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, রিলিজ অর্ডার এবং ওয়ারেন্ট রিকলের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে এক জেলার আসামিকে অন্য জেলায় দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় আনা সহজ হবে এবং অযথা হয়রানি কমবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার পরস্পরের পরিপূরক। শুধু আইন থাকলেই হবে না, প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, বিচার বিভাগকে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সাধারণ মানুষ আস্থা রাখতে পারে।

তিনি ‘এক্সেস টু জাস্টিস ফর অল’ নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, ন্যায়বিচার কোনো দয়া নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। বিচার ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

এদিকে কারাগারে বন্দিদের একটি বড় অংশ আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আইনজীবী নিয়োগ করতে না পেরে দীর্ঘদিন বিনাবিচারে আটক থাকছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন তিনি।

সবশেষে, এই ডিজিটাল উদ্যোগকে বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি আইনজীবী ও সংশ্লিষ্টদের নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করে দ্রুত ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!