1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০২ অপরাহ্ন

হজের নিয়মকানুন ও প্রকারভেদ: সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

ইসলামিক ডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

হজ ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, সামর্থ্যবান মানুষের ওপর হজ পালন ফরজ। অর্থাৎ শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম নারী-পুরুষের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ আদায় করা বাধ্যতামূলক।

হজের নির্ধারিত স্থানগুলো হলো কাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা এবং হজ শেষে মসজিদে নববী ও রওজা শরিফ জিয়ারত।

হজের নিয়তকে বলা হয় ইহরাম। এটি মূলত একটি অবস্থান ও নিয়ত, যা হজযাত্রীকে নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধের মধ্যে নিয়ে আসে।

হজের প্রকারভেদ

হজ সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে—

১. ইফরাদ হজ

শুধু হজের নিয়ত করে হজ সম্পন্ন করাকে ইফরাদ হজ বলা হয়। এতে আলাদাভাবে উমরাহ করা হয় না। হজযাত্রী ইহরাম অবস্থায় থেকে ১০ জিলহজ হজ সম্পন্ন হওয়ার পর ইহরাম খুলেন।

২. কিরান হজ

একই ইহরামে উমরাহ ও হজ একসঙ্গে আদায় করাকে কিরান হজ বলা হয়। এতে প্রথমে উমরাহ সম্পন্ন করা হলেও ইহরাম খোলা যায় না, বরং হজ শেষ হওয়া পর্যন্ত একই ইহরাম বজায় থাকে।

৩. তামাত্তু হজ

একই সফরে প্রথমে উমরাহ করে ইহরাম শেষ করে, পরে নতুন করে হজের জন্য ইহরাম বাঁধাকে তামাত্তু হজ বলা হয়। বাংলাদেশি হাজিদের অধিকাংশই এই পদ্ধতিতে হজ পালন করেন।

দম ও রোজার বিধান

কিরান ও তামাত্তু হজে কোরবানি (দমে শোকর) দেওয়া ওয়াজিব। কেউ যদি কোরবানি দিতে না পারেন, তাহলে ১০টি রোজা রাখতে হয়—এর মধ্যে অন্তত ৩টি হজের সময় রাখতে হয়।

হজের সময় সাধারণত ৯ জিলহজ (আরাফাতের দিন) ও ১০ জিলহজ (ঈদের দিন) ছাড়া অন্য দিনগুলোতে রোজা রাখা যেতে পারে। তবে ৯ জিলহজ রোজা রাখা হজ পালন না করা ব্যক্তিদের জন্য সুন্নত এবং ১১, ১২ ও ১৩ জিলহজ রোজা রাখা নিষেধ।

হজের ফরজ তিনটি

হজের তিনটি ফরজ হলো—

১. ইহরাম বাঁধা (নিয়ত করা)
২. আরাফাতে অবস্থান করা (৯ জিলহজ জোহর থেকে ১০ জিলহজ ফজর পর্যন্ত যেকোনো সময়)
৩. তাওয়াফে জিয়ারত করা (১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে কাবা শরিফ সাতবার প্রদক্ষিণ)

ইহরামের কিছু নিয়ম

পুরুষদের ইহরামে সাধারণত সেলাইবিহীন দুই টুকরো কাপড় পরতে হয়, মাথা খোলা রাখতে হয় এবং খোলা স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হয়। নারীদের নির্দিষ্ট পোশাক নেই, তবে মুখমণ্ডল ঢেকে রাখা যাবে না।

ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ কাজ

ইহরাম অবস্থায় কিছু কাজ নিষিদ্ধ, যেমন—

  • প্রাণী হত্যা বা ক্ষতি করা
  • সুগন্ধি ব্যবহার
  • চুল বা নখ কাটা
  • দাম্পত্য সম্পর্ক
  • ঝগড়া-বিবাদ ও অন্যায় আচরণ

হজের ওয়াজিবগুলো

হজের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিবগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • মুজদালিফায় অবস্থান করা
  • সাফা-মারওয়া সাঈ করা
  • ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ করা
  • কোরবানি (তামাত্তু ও কিরান হজে)
  • চুল কেটে ইহরাম শেষ করা
  • বিদায়ী তাওয়াফ করা
  • মদিনায় রওজা জিয়ারত করা
More News Of This Category

©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!