রেকর্ড ভাঙা তীব্র দাবদাহে ফ্রান্সে অন্তত এক হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটিতে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহারের স্বল্পতা নিয়ে মার্কিন পর্যটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সারদের সমালোচনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য আংশিক দায়ী করেছেন প্যারিসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।
প্যারিসের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক ডেপুটি মেয়র অড্রে পুলভার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে মার্কিন সমালোচকদের কড়া ভাষায় জবাব দেন। তিনি লেখেন, ‘কয়েক দিন ধরে আপনারা কেউ কেউ প্যারিসকে উপহাস করে বলছেন, এখানে প্রতিটি ঘরে এসি নেই। কিন্তু বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং এর ফলে ফ্রান্সে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য আপনাদেরও বড় দায় রয়েছে।’
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে ব্যাপকহারে এসি ব্যবহারের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও তাপপ্রবাহের সম্পর্ক রয়েছে। পরিবেশবান্ধব নগরব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্যারিসের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আমাদের উপদেশ দেওয়া বন্ধ করুন, আগে নিজেদের দায়িত্ব পালন করুন।’
যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ফ্রান্সে এসির ব্যবহার অনেক কম। দেশটিতে মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবারে এয়ার কন্ডিশনার রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে ফরাসিদের বড় একটি অংশ এসি ব্যবহারের বিরোধী। চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত ইপসোসের এক জরিপে দেখা যায়, ৭৮ শতাংশ ফরাসি মনে করেন এসি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এমনকি প্রতি ছয়জনের একজন জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে তারা দাবদাহের কষ্টও মেনে নিতে প্রস্তুত।
তবে সাম্প্রতিক ভয়াবহ তাপপ্রবাহে সেই মনোভাব বদলাতে শুরু করেছে। দেশজুড়ে পোর্টেবল বা বহনযোগ্য এসির চাহিদা বেড়েছে এবং বিভিন্ন দোকানে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে।
ফ্রান্সের পাবলিক হেলথ বিভাগের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার পর থেকে দেশটিতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে বাড়িতে মৃত্যুর হার প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট ফরাসি সংবাদমাধ্যম লা ট্রিবিউন–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সতর্ক করে বলেন, দাবদাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হয় না। অনেক ক্ষেত্রে তাপপ্রবাহ শেষ হওয়ার ৫ থেকে ১০ দিন পরও রোগীরা জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসছেন। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তাই তাপমাত্রা কমে গেলেও হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে স্থানীয় সময় রোববার রাতে বজ্রঝড়ের কারণে প্যারিসের তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও বজ্রপাতের ঘটনায় আইসিন, ইভলিন ও ইন্দ্র-এ-লোয়ার অঞ্চলে প্রায় ৩৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া প্যারিসের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে শনিবার থেকে টানা প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।