1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

ঢাকায় আইন কলেজের ছাত্রকে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ, টাকা আদায়ে পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি

এম আর রোমেল, বিশেষ প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

রাজধানীতে এক আইন কলেজের ছাত্র ও সহকারী পুরোহিতকে রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া ওই তরুণ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত তরুণের নাম সুভাষ দেউরী (২৫)। তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ল কলেজের ছাত্র এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মন্দিরে সহকারী পুরোহিত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।

সুভাষের বোন জয়া দেউরী জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায়। ঢাকার ওয়ারীর নারিন্দা এলাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকতেন সুভাষ।

পরিবারের অভিযোগ, সোমবার রাতে সুভাষকে অপহরণ করে রাতভর নির্যাতন চালানো হয়। এ সময় তাঁর কাছ থেকে টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ফোন করে অর্থ পাঠাতে বাধ্য করা হয়।

সুভাষের রুমমেট দুর্জয় সাহা বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় ফিরে তিনি সুভাষকে না পেয়ে ভেবেছিলেন, তিনি কোনো কাজে বাইরে গেছেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সুভাষের মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। তবে তাঁর কাছে টাকা না থাকায় পাঠাতে পারেননি।

দুর্জয়ের ভাষ্য, রাতভর বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখে ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাসায় ফেরার পথে নারিন্দা রোডের অগ্রণী ব্যাংকের সামনে সুভাষকে রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগও পাওয়া যায়নি।

পরে তাঁকে উদ্ধার করে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

দুর্জয় আরও দাবি করেন, সুভাষ তাঁকে জানিয়েছেন যে রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয় এবং সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে বাধ্য করা হয়।

সুভাষের বোন জয়া দেউরী বলেন, রাত ১টার দিকে ভাইয়ের নম্বরে ফোন করলে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি ফোন ধরে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে রাত আড়াইটার দিকে সুভাষ নিজেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফোন করে জানান, টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা করা হবে।

জয়ার দাবি, পরে একটি নির্দিষ্ট মোবাইল নম্বরে পরিবারের সদস্যরা ২৬ হাজার টাকা পাঠান। এরপর থেকে সুভাষের সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। পরদিন ভোরে তাঁকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় সুভাষকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

ওয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মফিজুর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে কাজ শুরু করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page