চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ ঘটনায় চার শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হওয়ার পর গভীর রাতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নেতারা।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়।
চাকসুর নেতারা অভিযোগ করেন, স্থানীয়দের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্ব নতুন নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা। সাম্প্রতিক সময়েও একাধিক ঘটনায় শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হয়েছেন। তাদের মতে, এসব ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভুঁঞা বলেন, ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও তা কার্যকর নয়। তিনি অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও সেখানে নিয়মিত পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায় না। অতীতে রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে যেভাবে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হতো, বর্তমানে সে ধরনের তৎপরতা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একইসঙ্গে চাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক হারেস মাতব্বা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে এলেও বারবার নিরাপত্তার দাবিতে রাজপথে নামতে হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কতবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত হবে?”
এর আগে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলক্রসিং সংলগ্ন এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার শিক্ষার্থী স্থানীয়দের হাতে মারধরের শিকার হন। আহতদের মধ্যে এক গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থী রয়েছেন।
এই ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দ্রুত বিচার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্যাম্পাস এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে, যা শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করবে।