বৈশাখ মাসের শুরু থেকেই দেশের আবহাওয়ায় গরমের প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। এতে করে সারাদেশে তীব্র গরম অনুভূত হচ্ছে এবং জনজীবনে অস্বস্তি বাড়ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৬টায় রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা আরও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগের দিন একই সময়ে এই তাপমাত্রা ছিল ২৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভোর থেকেই তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই প্রবণতা দিনের বাকি সময় আরও গরমের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগের দু–একটি স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকায় কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬১ থেকে ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। এ কারণে এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে চলাচলে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ঝড়-বৃষ্টি থাকলেও দেশের বড় অংশে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দেশের অন্যান্য এলাকায় আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হচ্ছে। দুপুরের দিকে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে যাচ্ছে, এবং শ্রমজীবী মানুষের কাজের ওপরও প্রভাব পড়ছে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা এই সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সরাসরি রোদে দীর্ঘ সময় না থাকা এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ২২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩২ মিনিটে। দিনের দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র রোদ থাকায় জনজীবনে গরমের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বৈশাখের শুরুতেই দেশের আবহাওয়া বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কোথাও তাপপ্রবাহ, কোথাও আবার ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা—এমন বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার মধ্যে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।