
ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে আরও প্রায় ৭ হাজার টন ডিজেল এসেছে। গত ১০ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার পর শুরু হওয়া এই চালানের তেল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ডিপোতে পৌঁছায়।
এবারের চালানটি ছিল পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির ৬৮তম ধাপ। এতে মোট ৭ হাজার টন বা প্রায় ৮২ লাখ ৩৫ হাজার ২৯০ লিটার ডিজেল আমদানি করা হয়েছে। প্রতি টন ডিজেলে ১ হাজার ১৭৬ দশমিক ৪৭ লিটার হিসেবে এ পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে প্রায় ২০ লাখ টন ডিজেল আমদানির কথা রয়েছে। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ পাইপলাইনটি উদ্বোধনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ভারত থেকে মোট ৩০ লাখ ১৪ হাজার ৭৮ টন ডিজেল আমদানি হয়েছে।
ভারত থেকে আমদানি করা ডিজেল প্রতিটি চালানে প্রায় সমহারে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিন বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান—পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েল কোম্পানির মধ্যে বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ অংশে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ১২৬ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার। পাইপলাইনটি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া, সদর ও বোদা উপজেলা, নীলফামারী সদর এবং দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলা হয়ে পার্বতীপুরের রিসিভ টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত।
মাটির প্রায় ৫ থেকে ৮ ফুট গভীরে স্থাপন করা এই পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি ভারত থেকে পার্বতীপুরে ডিজেল পরিবহন করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহনের ফলে উত্তরাঞ্চলে ডিজেল সরবরাহ আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে জ্বালানি পরিবহনের ওপর নির্ভরতাও কমছে।