পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে ভিন্ন এক দৃশ্যের জন্ম দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। প্রচারণার ব্যস্ততার মধ্যেই আচমকা রাস্তার পাশের এক ঝালমুড়ির দোকানে ঢুকে পড়েন তিনি এবং সাধারণ মানুষের মতোই ১০ টাকার ঝালমুড়ি কিনে খেতে শুরু করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝাড়গ্রামের রাজ কলেজ মোড়ে ‘স্বপনলালের স্পেশাল মুড়ি’ নামের একটি ছোট দোকানে হঠাৎ করেই প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী। দোকানটির মালিক বিক্রম সাউ, যিনি এলাকায় ‘বিহারীবাবু’ নামে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীর এমন আকস্মিক উপস্থিতিতে তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন।
শুধু নিজে ঝালমুড়ি খেয়েই থেমে থাকেননি মোদি। দোকানের সামনে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে সেই ঝালমুড়ি ভাগ করে নেন তিনি। পরে মুড়ির দাম হিসেবে ১০ টাকা পরিশোধও করেন। তার এই আচরণ মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে দেখে সেখানে দ্রুত ভিড় জমে যায়। স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দলীয় নেতাকর্মীরাও এই ঘটনাকে ব্যতিক্রমী বলে মন্তব্য করেন। অনেকেই একে নির্বাচনি প্রচারের ভিন্নধর্মী কৌশল হিসেবেও দেখছেন।
এদিকে একই দিনে ঝাড়গ্রামে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সভা থেকে রাজ্যের শাসক দল All India Trinamool Congress-এর বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে কঠোর সমালোচনা করেন মোদি। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষ সমস্যার মুখে পড়ছেন এবং দুর্নীতির কারণে উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া তিনি ‘মুক্ত বিজলি যোজনা’ প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন। তার দাবি, এই প্রকল্পের আওতায় পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তবে মোদির অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রকল্প যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি, যদিও ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে প্রচারের শেষ পর্যায়ে এমন একটি ঘটনাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের এই ধরনের মুহূর্ত ভোটারদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়