দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে ৫.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে দুই দেশের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় বেরিয়ে আসে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
পাকিস্তানের আবহাওয়া দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ পর্বতমালা অঞ্চল। ভূকম্পনের গভীরতা ছিল প্রায় ১৯৯ কিলোমিটার, যা তুলনামূলকভাবে গভীর হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদসহ খাইবার পাখতুনখোয়া, গিলগিট-বালতিস্তান এবং উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন শহর কেঁপে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কম্পনটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল এবং এ সময় ঘরের আসবাবপত্র দুলতে দেখা যায়। অনেকেই নিরাপত্তার কারণে দ্রুত ঘর থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন।
অন্যদিকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ দেশের কয়েকটি প্রদেশেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়। সেখানে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন।
উভয় দেশের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা বা বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দুর্গম ও পাহাড়ি অঞ্চলে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিন্দুকুশ অঞ্চলটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় এটি একটি সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ফলে এখানে প্রায়ই ছোট-বড় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। গভীর কেন্দ্রস্থলে উৎপন্ন ভূমিকম্প সাধারণত বিস্তৃত এলাকায় অনুভূত হলেও তুলনামূলকভাবে কম ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।
স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়