সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন খাতে নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের দুই মাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, যা দেশি-বিদেশি মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
মাহদী আমিন জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সরকারের নিরঙ্কুশ বিজয়কে আন্তর্জাতিক মহল গণতন্ত্রের পুনরুত্থান হিসেবে দেখছে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ নির্বাসন শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন শুধু জাতীয় নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বিশ্ব গণমাধ্যম তাঁর নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা নিয়ে ইতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানান, তাকে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীকে কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকারের কর্মকাণ্ড, নীতি ও সিদ্ধান্ত জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে তুলে ধরাই মুখপাত্রের প্রধান দায়িত্ব। পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দপ্তর ও নির্বাচনী এলাকার বিষয়ে বক্তব্য দেবেন।
গণমাধ্যমের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতেও গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে সরকারের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরার পাশাপাশি ইতিবাচক উদ্যোগে পাশে থাকার প্রত্যাশা রয়েছে।
মাহদী আমিন অভিযোগ করেন, সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগে সহযোগিতা করার পরিবর্তে বিরোধী দল সংসদে হট্টগোল, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি এবং অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে।
একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতন নাগরিকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’-এর প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন। মাহদী আমিন বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর নেতৃত্ব ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
সরকারের দুই মাসে নেওয়া পদক্ষেপগুলোর মধ্যে সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ উল্লেখ করা হয়েছে।
নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্পের আওতায় হাজারো পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু এবং ক্ষুদ্র কৃষকদের ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং রুফটপ সোলার কর্মসূচির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা, ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাখাতে ভর্তি ফি বাতিল, শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
নদী-খাল পুনঃখনন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন চালু, বিমানবন্দর উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ভূমি সেবা চালুর মতো উদ্যোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি ব্যয় কমাতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত জীবনযাপনে সরলতা এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে এবং দেশের প্রতিটি খাতে উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়