দেশে সংক্রামক রোগ হাম উদ্বেগজনক হারে বাড়ছেই। প্রতিদিনই নতুন আক্রান্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও, যার বড় অংশই শিশু। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, একই সময়ে নতুন করে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ২৮ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৮৬ জনের শরীরে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩৭ জন শিশু। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৭৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৭৮ জনে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে বা সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২২ হাজার ৪০৯ জন। অর্থাৎ মোট আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার চিত্রও একইভাবে উদ্বেগজনক। এ সময়ে হাম সন্দেহে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৮ জন। প্রতিদিন এমন উচ্চসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতের ওপর চাপ বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি, সচেতনতার অভাব এবং দ্রুত চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ঝুঁকি অনেক বেশি।
তারা আরও জানান, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সহজেই অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সময়মতো টিকা গ্রহণ, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বর্তমান পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি, কাশি বা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দেশে হামের প্রকোপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিন নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর জনমনে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়