দেশে সংক্রামক রোগ হাম নতুন করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। গত এক মাসের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, বরং দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মার্চের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে প্রায় ২০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে কয়েক হাজার শিশু আক্রান্ত হয়েছে এবং উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় করছে অসংখ্য পরিবার। প্রতিদিনই বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর আসছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াই পরিস্থিতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আক্রান্তদের দ্রুত আলাদা রাখা (আইসোলেশন), বিস্তৃত টিকাদান কার্যক্রম এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা জরুরি ছিল। পাশাপাশি চিকিৎসকদের জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন ও প্রশিক্ষণের অভাবও বড় একটি দুর্বলতা হিসেবে সামনে এসেছে।
দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচি ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হলেও তা এখনো সীমিত পরিসরে চলছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা প্রয়োজন। তা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কর্মসূচি শুরু করলেই হবে না, বরং এটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজির আহমেদ মনে করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি পরিকল্পনা নেওয়া উচিত ছিল। তার ভাষায়, হামের এমন ব্যাপক প্রাদুর্ভাব সাম্প্রতিক সময়ে খুবই বিরল। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের অভাব থাকায় সেবা প্রদানে বৈষম্য তৈরি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সংক্রমণ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
সব মিলিয়ে, হামের এই প্রাদুর্ভাব দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ, বিস্তৃত টিকাদান কর্মসূচি এবং কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থাই এই সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়