
গাইবান্ধা সদর উপজেলায় পুকুরে গোসল করতে নেমে তর্কের জেরে এক কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার একদিন পর অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে নিহত কিশোরের স্বজন ও বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৮টার দিকে নিহত কিশোর রাহাতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তদের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় তারা ঘরের আসবাবপত্র, থালা-বাসনসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে পুকুরে ফেলে দেন। একপর্যায়ে বাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও স্থানীয়দের বাধায় তা ব্যর্থ হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধরা প্রথমে জবান আলীর বাড়ি এবং পরে সাদেকুলের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই কিশোরসহ তাদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানা গেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নিহত কিশোরের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের হাওয়াই দিঘির মোড় এলাকার একটি দিঘিতে গোসল করতে নামে স্থানীয় তিন কিশোর—সাকিব (১৫), রিফাত (১৫) ও রাহাত (১৫)।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গোসলের সময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সাকিব ও রিফাত মিলে রাহাতকে পানিতে চুবিয়ে ধরে রাখে। এতে রাহাত অচেতন হয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত দুই কিশোর পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে সাকিব উত্তর হরিণ সিংহা গ্রামের জবান আলীর ছেলে এবং রিফাত সাইদুল ইসলামের ছেলে।