
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদত্যাগ করেছেন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। বঙ্গভবন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পদত্যাগের বিষয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “আমি ভীষণ অসুস্থ, তাই পদত্যাগ করেছি।”
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে পৌঁছানোর পর থেকেই রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।
জানা গেছে, মো. সাহাবুদ্দিন আগেই পদত্যাগের বিষয়ে মানসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিদায়ের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি। তবে জাতীয় সংসদের স্পিকার বিদেশে থাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদত্যাগের মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো।
এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের ৯ মে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ১৮ মে দেশে ফেরেন রাষ্ট্রপতি। ওই সফরের সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিষয়টি জানতে পারার পর তাকে পদত্যাগের বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, সংবিধান অনুযায়ী বিদেশ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে সফর সম্পর্কে অবহিত করেন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরলেও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদে থাকা নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও তার পদত্যাগের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহে তার ভূমিকা নিয়েও নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এদিকে বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য আসতে পারে।
শুক্রবার দুপুরে চিকিৎসা শেষে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে দেশে ফেরেন স্পিকার। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি দেশের বাইরে ছিলাম। এখানে কে পদত্যাগ করবেন বা করবেন না, তা আমার জানা নেই। যদি রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেন, তাহলে তিনি স্পিকারের কাছেই পদত্যাগপত্র দেবেন। এরপর আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে। এটাই সংবিধানের বিধান।”
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মো. সাহাবুদ্দিন। পাঁচ বছরের সাংবিধানিক মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন। তার পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।