
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনীতে আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজার ইমাম উদ্দিনকে (৪৫) কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় হোটেলের ক্যাশ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে চৌমুহনী-ফেনী সড়কের আমানিয়া হোটেলের ম্যানেজারের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। আহত ইমাম উদ্দিন নোয়াখালী সদর উপজেলার নওয়াজপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের বাসিন্দা।
এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় দায়ের করা এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন—হাসান মাহমুদ শুভ (৩৫), বাবু (৩৫), এনামুল হক লালন (৩২) ও মহদী হাসান (৩০)। তারা চৌমুহনী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
এজাহারে ইমাম উদ্দিন অভিযোগ করেন, হোটেলের পার্টনার হাসান মাহমুদ শুভ বিভিন্ন সময় হিসাবের বাইরে টাকা নিয়ে যেতেন। অন্যান্য পার্টনাররা তাকে হিসাবের বাইরে কোনো টাকা না দিতে নিষেধ করেন। এরপর থেকেই শুভ তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন।
ইমাম উদ্দিন ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাতে চার আসামিসহ অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হোটেলের অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে রামদা, ছেনি, চাপাতি ও লোহার রড ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় তারা ইমাম উদ্দিনকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারার পাশাপাশি চাপাতি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে তার মাথার ডান পাশে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয় এবং পাঁচটি সেলাই দিতে হয়।
এ ছাড়া লোহার রড দিয়ে মাথার বাম পাশে আঘাত করে গুরুতর জখম করা এবং ঘুষি মেরে নাক ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, এক আসামি ইমাম উদ্দিনের গলা চেপে ধরে তাকে হত্যার চেষ্টা করেন।
ইমাম উদ্দিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আব্দুল মালেক নামে এক বৃদ্ধকেও মারধর করে আহত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, এর আগেও অভিযুক্তরা একাধিকবার হোটেলে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন। ঘটনার পর মামলা করলে প্রাণনাশ এবং লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত ইমাম উদ্দিনকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হাসান মাহমুদ শুভর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।