
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। দুপুরে হঠাৎ একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে দেশের বিভিন্ন এলাকা। মুন্সিগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলায় মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে তিন শতাধিক স্থানে চালানো হয় সিরিজ বোমা হামলা। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ওই হামলার মাধ্যমে নিজেদের সাংগঠনিক সক্ষমতার জানান দেওয়ার চেষ্টা করেছিল।
দেশজুড়ে ৪৫০টির বেশি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত হন দুজন এবং আহত হন দুই শতাধিক মানুষ। ভয়াবহ ওই ঘটনার ২১ বছর পূর্ণ হলো আজ।
হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালত, বিমানবন্দর, মার্কিন দূতাবাস, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বিস্ফোরণের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে জেএমবির প্রচারপত্রও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে অভিযান শুরু করে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জেএমবির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারাও গ্রেপ্তার হতে থাকেন।
সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন থানায় দেড় শতাধিক মামলা করা হয়। এসব মামলার বেশিরভাগের বিচার ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
হামলার পর জেএমবির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার হন এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়।
শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ জেএমবির ছয় শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তারা হলেন—সংগঠনটির প্রধান শায়খ আবদুর রহমান, সেকেন্ড-ইন-কমান্ড সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, সামরিক কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, থিংকট্যাংক সদস্য আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালাহউদ্দিন।
২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সিরিজ বোমা হামলা বাংলাদেশের জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ইতিহাসে একটি বড় মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। একযোগে দেশের প্রায় সব জেলায় হামলা চালিয়ে জেএমবি যে সাংগঠনিক উপস্থিতির জানান দিতে চেয়েছিল, পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে সংগঠনটির শীর্ষ নেতৃত্ব বড় ধরনের ধাক্কা খায়।