
সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর প্রথম রাউন্ডের শেষ ম্যাচে ঢাকা লিগের বিদেশি খেলোয়াড় বেনজামার জোড়া গোলে দেবহাটা উপজেলা দলকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আশাশুনি উপজেলা একাদশ। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের চতুর্থ দল হিসেবে সরাসরি সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আশাশুনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আশাশুনি উপজেলা দল। ম্যাচের ৫ মিনিটেই গোলের দেখা পায় তারা। ডি-বক্সের ভেতর বেনজামার প্রথম শট বারে লেগে ফিরে এলে ফিরতি শটে গোল করেন তিনি। এতে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় আশাশুনি।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা করে দেবহাটা। তবে আশাশুনির আক্রমণও অব্যাহত থাকে। ম্যাচের ১৮ মিনিটে আশাশুনির আব্দুল্লাহর শট সরাসরি দেবহাটার গোলরক্ষক কাবিজের হাতে চলে যায়। এ সময় অসুস্থ হয়ে মাঠ ছাড়েন দেবহাটার মাঝমাঠের খেলোয়াড় সাদ্দাম। তার পরিবর্তে মাঠে নামেন শামিম।
ম্যাচের ২৩ মিনিটে আবারও গোল করেন বেনজামা। তার দ্বিতীয় গোলে আশাশুনি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রথমার্ধে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের ব্যবধান বাড়াতে আক্রমণ চালিয়ে যায় আশাশুনি। ম্যাচের ৯ মিনিটে ডি-বক্সের ডান দিক থেকে সজীবের জোরালো শট গোলরক্ষক কাবিজ হাত লাগিয়ে ঠেকিয়ে দেন।
এরপর পাল্টা আক্রমণে গোল পেয়ে যায় দেবহাটা। দ্বিতীয়ার্ধের একপর্যায়ে ১২ নম্বর জার্সিধারী শামিম দূরপাল্লার শটে আশাশুনির গোলরক্ষক জি কে শান্তকে পরাস্ত করে ব্যবধান ২-১ করেন।
গোল পরিশোধে এরপর আরও মরিয়া হয়ে ওঠে দেবহাটা। দ্বিতীয়ার্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রাখলেও শেষ পর্যন্ত আর গোলের দেখা পায়নি তারা। ফলে ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আশাশুনি উপজেলা দল।
এই জয়ের ফলে আগামী ২৩ আগস্ট দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শক্তিশালী শ্যামনগর উপজেলা দলের মুখোমুখি হবে আশাশুনি।
ম্যাচে দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হয়েছেন আশাশুনির গোলরক্ষক জি কে শান্ত। পুরো ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেভের পাশাপাশি নিশ্চিত আটটি গোলের মধ্যে সাতটি শট ঠেকিয়ে দলকে জয় এনে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
ম্যাচটি পরিচালনা করেন রেফারি আবু সুফিয়ান। সহকারী রেফারি ছিলেন ওয়াসিউদ্দীন খান পিপুল ও এ কে এম আজাদ কানন। চতুর্থ রেফারি ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির এবং ম্যাচ কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন আতাউর রহমান। মাঠে ধারাভাষ্য দেন ওলিউর রহমান, সিরাজুল ইসলাম ও আশরাফ হোসেন।