1. live@www.media71bd.com : Media 71 : Media 71
  2. info@www.media71bd.com : Media 71 :
রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৫ অপরাহ্ন

রংপুরে একই পরিবারের ৪ জন হত্যায় দুই যুবক আটক

রফিকুল ইসলাম রফিক, রংপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর পর্যন্ত ওই এলাকার দুই যুবককে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বাড়ি মাছুয়াপাড়ায় বলে জানা গেছে।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ওই এলাকায় অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়।

সূত্রের দাবি, আটকদের একজন অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে ইয়াবা সেবনের আলামতও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সূত্র। স্থানীয় যুবকদের একটি দল এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডাকাতির উদ্দেশ্যে তারা ওই বাড়িতে ঢুকে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

তবে সন্দেহভাজনদের আটকের বিষয়টি পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। এ ঘটনায় রোববার দুপুর ১২টার দিকে মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার

এর আগে শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন—গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দুইতলা বাড়িটিতে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, বাড়ির ছাদ থেকে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়ি থেকে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রোববার ভোর ৪টার দিকে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ডাকাতির বিষয়টি সামনে রেখে তদন্ত

গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ছেলে প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটে থাকতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায়। ফলে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট। পাশাপাশি মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট তদন্তে কাজ করছে।

রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থা কাজ করছে। কেউ আটক হয়ে থাকলেও থাকতে পারে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। বাড়িঘর তছনছের ধরন দেখে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© ২০২৬- প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট

You cannot copy content of this page