
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে মারামারির একটি মামলায় সাক্ষী হওয়ায় সাবেক এক ইউপি সদস্যকে হয়রানি ও মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদে এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পানান এলাকার হকফুল কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের সামনে সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান সদস্য আব্দুল মালেক খোকা, স্থানীয় বাসিন্দা মো. শফিক, মো. জালাল মিয়া, শিল্পী আক্তার, লিপি আক্তার ও আলপিনা বেগমসহ অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ২৬ জুন জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে র্যাব সদস্য মো. মোস্তুফা কামাল ও তার ভাই এনামুল তাদের চাচা-শ্বশুর মিজানুর রহমান রিটনকে একটি ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করতে গেলে নাজমুল নামে এক যুবককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলামকে প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী করা হয়। একই মামলায় মিজানুর রহমান রিটন বাদী হন।
বক্তারা আরও দাবি করেন, পরবর্তীতে ওই হামলার ঘটনা আপস-মীমাংসার জন্য র্যাব সদস্য মোস্তুফা কামালের স্ত্রী তানজিনা আক্তার সাবেক ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলামের কাছে যান। তবে আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তখন কোনো মীমাংসা করা সম্ভব নয় বলে সাইদুল জানান।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তানজিনা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। তাদের দাবি, মূল মামলার আসামি স্বামীকে রক্ষা এবং সাক্ষী সাইদুল ইসলামকে চাপে ফেলতে তানজিনা আক্তার বাদী হয়ে সাইদুল ইসলাম ও মূল মামলার বাদী মিজানুর রহমান রিটনের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন।
হকফুল কুঁড়ি কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক জাহেদুল ইসলাম বলেন, স্কুলের ভেতরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি শুনেছেন, সাইদুল মেম্বার তানজিনার শাশুড়িকে তার ছেলের বউকে সেখান থেকে নিয়ে যেতে বলেছিলেন।
স্কুলের পাশের মুদির দোকানদার মো. শফিক বলেন, সাইদুল মীমাংসায় অপারগতা জানালে তানজিনা মামলার বাদী তার চাচা রিটনকে হুমকি দেন। এতে সাইদুল ক্ষুব্ধ হয়ে উচ্চবাচ্য করেন এবং তার শাশুড়িকে ডেকে তানজিনাকে নিয়ে যেতে বলেন। তবে তাদের সামনে শ্লীলতাহানি বা গায়ে হাত দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান সদস্য আব্দুল মালেক খোকা বলেন, ওইদিন তিনি স্কুলের সামনে উপস্থিত ছিলেন। তার ভাষ্য, শ্লীলতাহানি বা তানজিনার শরীরে হাত দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও দাবি করেন, মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের কেউই সেদিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে মামলার বাদী তানজিনা আক্তারের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, ওইদিনের ঘটনা তার স্বামী র্যাব সদস্য মো. মোস্তুফা কামাল ভালো বলতে পারবেন।
অন্যদিকে, মোস্তুফা কামাল দাবি করেন, তাদের সঙ্গে কোনো জমিসংক্রান্ত বিরোধ নেই।
অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মামলার প্রকৃত ঘটনা ও আইনগত অবস্থান তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।