
সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে উঠেছে আশাশুনি উপজেলা দল। রোমাঞ্চকর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে শ্যামনগর উপজেলা দলকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে তারা।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দল ২-২ গোলে সমতায় ছিল। ফলে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। ২৪ মিনিটে শ্যামনগরের বিদেশি খেলোয়াড় গিয়াসের শট আশাশুনির ডিফেন্ডার ফাহিমের মাথায় লেগে জালে জড়ালে আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় শ্যামনগর।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে আশাশুনির বিদেশি খেলোয়াড় বেনজামার গোল করে দলকে ১-১ সমতায় ফেরান। সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৯ মিনিটে আশাশুনির বিদেশি খেলোয়াড় সামসির দুর্দান্ত গোলে দলটি ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে আক্রমণ বাড়ায় শ্যামনগর।
৬৫ মিনিটে আশাশুনির রাজুর দৃষ্টিনন্দন গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। চার মিনিট পর, ৬৯ মিনিটে শ্যামনগরের কর্নার থেকে বিদেশি খেলোয়াড় গিয়াস গোল করে আবারও ম্যাচে সমতা ফেরান।
শেষ দিকে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। শ্যামনগরের গিয়াসের একটি দুর্দান্ত শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। শেষ পর্যন্ত ২-২ সমতায় নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষ হলে টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত হয়।
টাইব্রেকারে আশাশুনি চারটি শটের চারটিতেই গোল করে। বিপরীতে শ্যামনগর চারটি শটের মধ্যে দুটি গোলে পরিণত করতে সক্ষম হয়। ফলে ৪-২ ব্যবধানে জয় পেয়ে ফাইনালে উঠে আশাশুনি।
ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন আশাশুনির গোলরক্ষক জি কে শান্ত। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একাধিক নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দলকে জয় এনে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি।
আগামী ৩০ আগস্ট রোববার বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে মুখোমুখি হবে আশাশুনি উপজেলা দল ও কালিগঞ্জ উপজেলা দল।
ম্যাচ পরিচালনা করেন রেফারি নাসির উদ্দিন। সহকারী রেফারি ছিলেন আবু ওয়াহেদ বাবলু ও ওয়াসিউদ্দীন খান বিপুল। চতুর্থ রেফারি নাজমুল এবং ম্যাচ কমিশনার ছিলেন আতাউর রহমান।