
গাজীপুরে মহাসড়কের পাশের খাল থেকে উদ্ধার হওয়া অর্ধগলিত ও খণ্ডিত নারীর মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত সংস্থার দাবি, প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ দুই টুকরো করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক, তার মা ও এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।
পিবিআই জানায়, শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকা থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। তিনি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর গাজীপুরের বানিয়ারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তিনি।
পরিচয় শনাক্তের পর ডলির বড় ভাই সোহেল বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বুড়াবুড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান মিল্টন (২৪)। তাদের গাজীপুর মহানগরের বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার পৃথক ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, একই পোশাক কারখানে কাজের সুবাদে ডলির সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে ডলি ও মিশন আলাদা ঘরে যান।
তদন্ত সংস্থার দাবি, বিয়ে নিয়ে সিদ্ধান্ত ও আগের বিভিন্ন বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ডলিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মিশন। পরে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে পিবিআইয়ের দাবি।
পরে মরদেহ খাটের নিচে রাখা হয়। পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে বানু আক্তার মরদেহ দেখতে পান বলে জানায় পিবিআই।
মরদেহ গুম করার জন্য মিশন একটি স্যুটকেস কিনে আনেন। তবে মরদেহ পুরোপুরি স্যুটকেসে না ধরায় বটি ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে দুই টুকরো করা হয় বলে তদন্ত সংস্থার দাবি। এরপর এক অংশ স্যুটকেসে এবং অন্য অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।
পরে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে মিশন তার বন্ধু মিল্টনকে ডেকে আনেন। এরপর স্যুটকেস ও বস্তায় রাখা মরদেহ অটোরিকশায় করে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকায় নিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানায় পিবিআই।
মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নামে পিবিআই। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মিশনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বানু আক্তার ও মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই আরও জানায়, অভিযানের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, ধারালো ব্লেড ও স্কচটেপের পাশাপাশি নিহতের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।