আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে পরস্পর প্রতিযোগী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দুই বড় দলের পাশাপাশি অন্যান্য দলও আলাদা আলাদা ইশতেহার প্রকাশ করেছে। নির্বাচনি প্রচারণায় প্রার্থীরা ইশতেহারের বাইরে গিয়েও নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
প্রতিশ্রুতিগুলোর দিকে তাকালে মনে হয়, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের উন্নয়ন কেউ ঠেকাতে পারবে না। তবে এসব প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, আগের নির্বাচনগুলোর আগে দেওয়া ইশতেহারের খুব অল্প অংশই বাস্তবে রূপ পেয়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিকতার ঘাটতি থাকায় ভোটারদের আশাভঙ্গ হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইশতেহারে এমন কিছু প্রতিশ্রুতি যুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য নয়। জনসংখ্যাধিক্য ও সীমিত সম্পদের দেশে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বাস্তব সামর্থ্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। এবারও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া, সামাজিক সুরক্ষা জোরদারে বিভিন্ন কার্ড ও ভাতা চালু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করার মতো বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা অনেক ক্ষেত্রেই অনুপস্থিত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, তা বাস্তবায়নের পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকতে হবে। অবাস্তব প্রতিশ্রুতি নির্বাচিত সরকারের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছেন তারা।
নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রায় শেষের পথে। এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের রূপরেখা স্পষ্ট করা। জাতি একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখার অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে সব পক্ষ নির্বাচনকে অর্থবহ করবে এবং নির্বাচিত সরকার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ভূমিকা রাখবে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়