দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নগরীর ঐতিহ্যবাহী খাতুনগঞ্জসহ কয়েকটি বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে নানা অনিয়মের দায়ে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১৪টি মামলায় মোট ২৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
গতকাল পরিচালিত এ অভিযানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম নিজেও উপস্থিত ছিলেন। তিনি পাইকারি থেকে খুচরা—সব ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির সুযোগ নেই। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “উৎসব এলে দাম কমবে—এমন সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।” অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট বা ভোক্তা হয়রানি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, খাতুনগঞ্জ দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাজার। এখান থেকে যদি দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে সারা দেশ তা অনুসরণ করবে। রমজানকে কেন্দ্র করে কোনোভাবেই অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা যাবে না। উৎসবের আনন্দ তখনই অর্থবহ হবে, যখন সব শ্রেণির মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবে।
পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর নিত্যপণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি ব্যবসায়ীদের ‘ব্লেইম গেম’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবসা পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে যথাযথ রশিদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাইকারি বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রির সময় রশিদে বিক্রেতার যোগাযোগ নম্বর সংযুক্ত রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে প্রয়োজনে তা যাচাই করা যায়।
জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি বা পণ্যের ঘাটতি আছে কি না জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে কোনো চাঁদাবাজি বা সরবরাহ ঘাটতি নেই। তাঁদের দাবি, অনেক পণ্যের দাম কমেছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি অংশের অভিযোগ, পাইকারি পর্যায়ে কিছু পণ্যের দাম বাড়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ, রিয়াজউদ্দিন ও বড়পুল এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১৪টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। রমজানজুড়ে এ ধরনের বাজার মনিটরিং অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে ছোলা, চিনি, তেল ও খেজুরসহ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। রমজানের আগে বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি করা হলেও কিছু পণ্য গভীর সমুদ্রে লাইটার জাহাজে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা হয়। সরকারের সতর্কবার্তার পর সেসব পণ্য খালাস করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়