ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯টি আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নেই। এর মধ্যে ৮টি আসনে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার কারণে বিএনপি প্রার্থী দেয়নি এবং একটি আসনে আইনি জটিলতায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর প্রার্থিতা চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়েছে।
যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপি পাঁচটি মিত্র দলকে মোট ৮টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এসব আসনে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর প্রার্থীরা নিজ নিজ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি চারটি আসন পেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। বাকি চারটি আসন পেয়েছে গণসংহতি আন্দোলন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি–বিজেপি এবং গণঅধিকার পরিষদ।
ধানের শীষ না থাকায় এসব আসনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের জয় নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোটের মাঠে তাদের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা, যারা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। যদিও দল ইতোমধ্যে তাদের বহিষ্কার করেছে।
এ ছাড়া কুমিল্লা-৪ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন আদালতে বাতিল হওয়ায় সেখানে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। ফলে এই আসনটিও ধানের শীষবিহীন তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
ঢাকা-১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩, কুমিল্লা-৪ ও সিলেট-৫সহ কয়েকটি আসনে জোটপ্রার্থী, বিএনপির বিদ্রোহী এবং অন্যান্য দলের প্রার্থীদের মধ্যে ত্রিমুখী বা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। ভোটারদের মতে, পরিচিত প্রতীক ধানের শীষ না থাকায় ভোটের সমীকরণ জটিল হয়ে উঠেছে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।
সব মিলিয়ে, ধানের শীষবিহীন ৯টি আসন এখন নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত ও উত্তপ্ত কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়