
বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এবারের নির্বাচনে বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরে পরিণত হয়েছেন। অনেক আসনে তারা দল মনোনীত প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। এ কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীরাও জোরেশোরে তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নির্বাচনি ফলাফলেও তারা চমক সৃষ্টি করতে পারেন, যা দলীয় কৌশলের বাইরে আসনে বিএনপির প্রার্থীদের ঝুঁকিতে ফেলেছে।
দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হওয়ায় অন্তত ৭১ জনকে বিএনপি বহিষ্কার করলেও নির্বাচনি লড়াই থেকে তারা দূরে রাখা যায়নি। অনেক এলাকায় একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া, অন্য দলের প্রার্থীও বিএনপি সমর্থিত থাকলেও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
বহিষ্কৃত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উদাহরণ:
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র) বনাম বিএনপি সমর্থিত জুনায়েদ আল হাবিব।
পটুয়াখালী-৩: হাসান মামুন স্বতন্ত্র, বিএনপি সমর্থিত নুরুল হক নুর।
ঝিনাইদহ-৪: সাইফুল ইসলাম ফিরোজ স্বতন্ত্র, মনোনীত রাশেদ খান।
কিশোরগঞ্জ-১ ও কিশোরগঞ্জ-৫: বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী।
নাটোর-৩ ও পাবনা-৪: জেলা শাখার বহিষ্কৃত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী।
শেরপুর-১ ও হবিগঞ্জ-১: বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বাক ও নেতারা স্বতন্ত্র।
নাটোর-১: দুই ভাইবোন ও দলের অন্যান্য নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে।
মুন্সীগঞ্জ-৩: মো. মহিউদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী, বহিষ্কার।
নেত্রকোনা-৩: দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া স্বতন্ত্র, বহিষ্কার।
দিনাজপুর-২: বজলুর রশিদ কালু স্বতন্ত্র।
ময়মনসিংহ-৩ ও ময়মনসিংহ-১০: সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানরা স্বতন্ত্র প্রার্থী, বহিষ্কার।
টাঙ্গাইল-৩ ও টাঙ্গাইল-৫: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ।
যশোর-১ ও যশোর-২: মনোনয়ন বঞ্চিত বা স্বতন্ত্র প্রার্থী উপস্থিত।
ঢাকা-৭ ও ঢাকা-১৪: বিগত আন্দোলন ও জনপ্রিয়তার কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সাতক্ষীরা-৩: ডা. শহিদুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী।
বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, মনোনয়ন তালিকায় নব্য, হাইব্রিড, প্রবাসী ও কিছু সুবিধাভোগীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের বঞ্চিত করা হলে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপ না থাকায় দলীয় বিভাজন বৃদ্ধি পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান মনে করেন, বিএনপির যোগ্য প্রার্থী দেওয়ার অভাব ও মনোনয়ন বিতর্কের কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ভোটের ফ্যাক্টর হিসেবে ভূমিকা রাখছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচনে হার-জিত থাকলেও জনপ্রিয় নেতাদের ভোটের প্রভাব স্বাভাবিকভাবে থাকবে।
সারসংক্ষেপে, স্বতন্ত্র ও বহিষ্কৃত প্রার্থীরা এবার বিএনপির জন্য মূল চ্যালেঞ্জ এবং ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছেন।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়
Leave a Reply