1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

দুটি ভোটে নির্ধারিত হবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কাঠামো: জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার ভাষণ

মিডিয়া ডেস্ক
  • Update Time : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

আগামী পরশু অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভোট—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গণভোট। এ দুটি ভোটের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো নির্ধারিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ভোটাধিকার কারো দয়া নয়; এটি সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই জনগণ নির্ধারণ করবে দেশ কোন পথে এগোবে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি শুধু নিয়মিত নির্বাচন নয়; বরং একটি গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। রাজপথে উচ্চারিত জনগণের দাবি এবার ব্যালটের মাধ্যমে সাংবিধানিক স্বীকৃতি পাবে।

তিনি সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, এবারের নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। এ জন্য তিনি রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, ভোটার, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তবে প্রচারকালীন সহিংসতায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বলেন, গণতন্ত্রের চর্চায় প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভাষণে উল্লেখ করা হয়, এবারের নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছে এবং স্বতন্ত্রসহ প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের বেশি—যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। এ নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র হবে কি না।

তরুণ ও নারী ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটাধিকার থাকা সত্ত্বেও যারা ভোট দিতে পারেননি, তাদের জন্য এটি প্রথম সত্যিকারের রাজনৈতিক উচ্চারণের সুযোগ। ভয়কে পেছনে রেখে সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, রেকর্ডসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী, সিসি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সরকারি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারাগারে থাকা যোগ্য নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

গুজব ও অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করতে। নির্বাচনের পর দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব শেষ করবে—এ কথাও তিনি স্পষ্টভাবে জানান।

জুলাই জাতীয় সনদকে গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতিফলন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো একক দলের ইশতেহার নয়; বরং জাতীয় ঐকমত্যের দলিল। এই সনদের ওপর গণভোট বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন মাইলফলক হবে এবং এর প্রভাব পড়বে বহু প্রজন্মজুড়ে।

ভাষণের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। “দেশের চাবি আপনার হাতে—সঠিকভাবে ব্যবহার করুন। এবারের ভোটের দিন হোক নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন,”—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!