
তিনবার নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। তবে ভোটের আগেই অধিকাংশ স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোয় সার্বিক পরিস্থিতিতে ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসজুড়ে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ চলবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং ভোট গ্রহণ শেষে গণনার পুরো প্রক্রিয়া সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এর আগে সর্বশেষ ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জরুরি সিন্ডিকেট সভায় জকসু নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এরও আগে ২৭ নভেম্বর ও ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। অন্যদিকে হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৩৩ জন প্রার্থী।
নির্বাচনে চারটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এগুলো হলো— ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ এবং শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’। হল সংসদ নির্বাচনে তিনটি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে— শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান’, ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার সমর্থিত ‘অপরাজিতার অগ্রযাত্রা’ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সমর্থিত ‘রোকেয়া পর্ষদ’।
এদিকে তিনবার স্থগিতের পর আজ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিব বলেন, “প্রথমবারের মতো আমরা জকসু নির্বাচন পেতে যাচ্ছি। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন ঘিরে যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল, তা এখন অনেকটাই কমে গেছে। অনেক শিক্ষার্থীই বাড়ি চলে গেছেন।”
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply