দ্বিধা-দ্বন্দ্বের দোলাচলে কাঁপে সংশয়ী পদভার,
এক পা বাড়ালে পিছুটান আসে বারবার দুই বার।
তোমার মনের গহন গহীনে কার বসবাস চলে?
আড়ালে আবডালে কাকে রাখো কোন সংগোপন কৌশলে?
হয়তো তোমার অলিন্দে আমি তুচ্ছ কাঁচের কণা,
মূল্যহীন এক ভগ্ন হৃদয়- অবহেলায় চেনা।
অথচ আমি আমাতে আছে এক দৃঢ় হিমাদ্রির সংকল্প,
নিজেকে চিনেছি একা, জানি মোর প্রেমের আদিগল্প।
অদৃশ্য হাতের ছোঁয়ায় যেমন শ্যামল হয় এ ধরা,
মোর হৃদয়েও বইছে তেমনই প্রেম-সুধার ধারা।
বিশ্ব ভূবণে নিজ গুণে আমি আপন মহিমায় জাগি,
মণি-কাঞ্চন প্রেমে সিক্ত- চাতক তৃষ্ণার লাগি।
প্রেম তো এক সাধনা প্রিয়, অতি যতনের ধন,
ভক্তি-আকুতি মিশিয়ে তাহে রচতে হয় ভূবণ।
মায়াবী জালের অলখ টানে যদি আমায় ডাকো,
অকৃত্রিম সেই মমতার নীড়ে আগলে আমায় রাখো।
তৃষ্ণার্ত সেই চাতকিনী আমি, স্ফটিক জলের আশে-
স্বপ্ন-জাগানিয়া প্রেম-সুধা পানে ব্যাকুল দীর্ঘশ্বাসে।
এই যে আমার নিবেদিত প্রাণ, জাগরিত ব্রত আজি,
প্রেমের নীলায় বিলীন হতে আমি সর্বদাই রাজি।
অভেদ্য মায়ার মোহন বাঁশিতে ডাকো যদি একবার,
সবুজ শস্যের সিক্ত প্লাবনে নামিব আপনাকার।
কবিতার পঙ্কিত কাব্যিক চয়নিকার মূলধারার সংকল্পিত ভাবের নির্যাস:- আমার লেখা কবিতাটির মূল ভাবিও সুর হলো অনিশ্চিত ভালোবাসার বেদনা বনাম নিজের হৃদয়ের গভীরতা ও দৃঢ়তার প্রকাশ। কবিতাটিতে আমি বোঝাতে চেয়েছি যে, প্রিয়জনের কাছ থেকে অবহেলা বা অনিশ্চয়তা পেলেও প্রকৃত প্রেমিক নিজের আত্মমর্যাদা এবং ভালোবাসার বিশালতা সম্পর্কে সচেতন। এই প্রেম কেবল সাময়িক কোনো টান নয়, বরং এটি একটি সাধনা, যা চাতক পাখির তৃষ্ণার মতো পবিত্র এবং শস্যশ্যামল পৃথিবীর মতো উর্বর।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়