কুড়িগ্রামে দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার মাত্রা কিছুটা কম থাকলেও হিমেল বাতাস এবং কনকনে ঠান্ডায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ছিন্নমূল ও নিম্ন আয়ের মানুষজন অতিষ্ঠ হয়েছেন। প্রয়োজনীয় গরম কাপড়ের অভাবে অনেকেই সময়মতো কাজে যেতে পারছেন না।
বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছে।
উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের দই খাওয়ার চর গ্রামের কালু মিয়া বলেন, “দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা নেই। ঠান্ডায় ঘরেও থাকা যায় না। আগুন জ্বালিয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছি।”
চিলমারী উপজেলার বড়চর এলাকার সত্তরোর্ধ্ব বাচ্চানী বেওয়া জানান, “বিছানা ঠান্ডা হয়ে থাকে। ঠান্ডা কমাতে ঘরে খড় কুটো দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে চেষ্টা করছি।”
সদর উপজেলার পাচগাছী ইউনিয়নের আব্দুল জলিল বলেন, “ঠান্ডায় ঘর থেকে বের হওয়া যায় না। তারপরও বীজতলা তৈরি না করলে ধান লাগাব কীভাবে? নিরুপায় হয়ে এই ঠান্ডায় বীজতলা তৈরি করছি।”
শীতার্ত মানুষের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কুড়িগ্রামে ৫৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। জেলা প্রশাসন সেই টাকায় ১৩ হাজার কম্বল কিনেছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার তহবিল থেকে ১২ হাজার কম্বল পাওয়া গেছে। মোট ২২ হাজার কম্বল উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ৯ উপজেলার ৭২টি ইউনিয়ন ও তিন পৌরসভায় বিতরণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, জেলায় প্রায় ২২ লাখ মানুষের মধ্যে ২২ হাজার কম্বল যথেষ্ট নয়। তারা সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকেও শীতার্ত মানুষের পাশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, “গত এক সপ্তাহ ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে বিরাজ করছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও কমে আসছে। ফলে কনকনে ঠান্ডার প্রকোপ বাড়ছে।”









Leave a Reply