
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক এবং ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় তিন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে মূল সন্দেহভাজন শেখ আলামিন পলাতক রয়েছেন।
বিস্ফোরণ ঘটে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল ১০:৩০ মিনিটের দিকে হাসনাবাদ এলাকার উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার একতলা ভবনে। এতে অন্তত চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে আলামিনের স্ত্রী আসিয়া এবং তাদের তিন সন্তানও রয়েছেন।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিস্ফোরণের পর এন্টি টেরোরিজম ইউনিট এবং সিআইডি ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযানের সময় একটি ল্যাপটপ, দুটি মনিটর, বিভিন্ন লিকুইড রাসায়নিক এবং চারটি ককটেল সদৃশ বস্তু উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শেখ আলামিন ও তার স্ত্রী আসিয়া ২০২২ সাল থেকে মাদ্রাসাটি পরিচালনা করছিলেন। বিস্ফোরণের সময় আলামিন আহতদের সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং পরে আত্মগোপনে চলে যান। তার স্ত্রী আসিয়া, বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার এবং আসমানি খাতুন নামের আরেক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শেখ আলামিনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, আলামিন ২০১৭ ও ২০২০ সালে গ্রেফতার হন এবং ২০২৩ সালে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অটোরিকশা ও উবার চালক হিসেবে কাজ করছিলেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বিস্ফোরণটি রাসায়নিক বিক্রিয়া বা বিস্ফোরকজাত দ্রব্যের কারণে হতে পারে। ঘটনাস্থলে আনুমানিক ৪০০ লিটার লিকুইড রাসায়নিক পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কিছুতে ‘হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড’ লেখা ছিল। যদিও এখনই জঙ্গি সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত নয়।
পুলিশ সুপার বলেন, রাজধানীর জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটলেও বড় ধরনের প্রাণহানি হয়নি। তিনি নাগরিকদের সতর্ক করে বলেছেন, আশপাশে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখা দিলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জানান।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি
Leave a Reply