টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পরিকল্পনা করে ঢাকায় অগ্নিসন্ত্রাস ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগসহ একাধিক নাশকতার ঘটনায় সম্পৃক্ততা শনাক্তের পর রমনা বিভাগের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার চারজনকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ৩০ অক্টোবর ধানমন্ডির ২৮ নম্বর সড়কে নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে মিছিলের প্রস্তুতিকালে পুলিশ আকস্মিক অভিযান চালিয়ে শওকত ওসমান বাবু ও মিলন খানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে। শওকত বাবু ধানমন্ডি ২২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং এলাকাবাসীর ওপর দমন-পীড়ন ও ছাত্র আন্দোলনে হামলার মতো অভিযোগে কুখ্যাত। মালয়েশিয়া থেকে ফেরার পর তিনি নতুন করে নাশকতার পরিকল্পনা শুরু করেন। তার মোবাইল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন এবং নাশকতার নির্দেশনামূলক ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ এলাকায় ১৬ নভেম্বর বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও তার প্রত্যক্ষ নির্দেশনা ও অর্থায়নের প্রমাণ মিলেছে।
গ্রেপ্তার মিলন খান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নাশকতা সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতেন। তিনি নড়াইল ও গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে যুবলীগ–ছাত্রলীগ কর্মীদের এনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি টিনশেড বাসায় থাকার ব্যবস্থা করতেন, যেখান থেকে ঝটিকা মিছিল ও নাশকতার নির্দেশনা দেওয়া হতো।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে— তাওহিদুল ইসলাম অপু ও সাব্বির শেখ। অপু হাজারীবাগ আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াহিদুর রহমান ও শওকত বাবুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি স্বীকার করেছেন যে তাদের নির্দেশে হাজারীবাগ, ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকায় নাশকতার প্রস্তুতি চলছিল। বাস পোড়ানোর ঘটনায় তার অংশগ্রহণের স্ক্রিনশট প্রমাণও পাওয়া গেছে। শওকত বাবুর বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাওয়ার তথ্যও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
সাব্বির শেখ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মহানগর যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি স্বপনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তিনি বিভিন্ন জেলা থেকে নেতাকর্মীদের ডেকে এনে ঢাকায় অগ্নিসন্ত্রাসে যুক্ত করতেন। টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সক্রিয় থেকে বাসে আগুন দেওয়ার নির্দেশনা দিতেন। ২৮ নভেম্বর ধানমন্ডিতে মিছিলের প্রস্তুতির সময় পালিয়ে গেলেও পরে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মোবাইল বিশ্লেষণে ‘আস্থায় শেখ হাসিনার যুবলীগ ঢাকা দক্ষিণ’, ‘দরবার হল গ্রুপ’, ‘বাঙালি বাংলাদেশ’, ‘২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ’সহ বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপে নাশকতার পরিকল্পনা, ককটেলের ছবি, বিস্ফোরকের তথ্য, আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ভিডিও পাওয়া গেছে। রূপনগর, হাজারীবাগ, ধানমন্ডিসহ একাধিক এলাকায় অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনাতেও তাদের সম্পৃক্ততা মিলেছে।
ডিসি মাসুদ আলম জানান, চক্রটির আরও কয়েকজন সদস্যকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়