
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী তরুণকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এদিকে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িঘর, মন্দির ও দোকানপাটে ভাঙচুরের পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বুধবার (২৫ জুন) আদালত অভিযুক্ত তরুণকে কারাগারে পাঠান। এর আগে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে অভিযুক্ত তরুণের একটি আপত্তিকর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তাহিরপুরের বাদাঘাট বাজার ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা গড়কাটি গ্রাম ও বাদাঘাট বাজারে কয়েকটি বাড়িঘর, তিনটি মন্দির এবং দুটি দোকানে ভাঙচুর চালায়।
অভিযুক্ত তরুণের মা জানান, ঘটনার দিন বিকেলে কয়েকজন যুবক তার ছেলেকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে তিনি জানতে পারেন, ফেসবুক পোস্টের অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করেছে। এর কিছুক্ষণ পর শত শত মানুষ তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র, পানির মোটর, ট্যাংকসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। ঘটনার পর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিরাপত্তার কারণে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী অরুণ রায় জানান, সন্ধ্যার দিকে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল তার দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এরপর বাজারের হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তার আশঙ্কায় দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
তাহিরপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গণেশ তালুকদার বলেন, বাদাঘাট কালীমন্দির, গড়কাটি কালীমন্দির ও দুর্গামন্দিরসহ তিনটি মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়েছে। মন্দিরগুলোর সামনের নাটমন্দিরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তবে একজনের কর্মকাণ্ডের দায় যেন পুরো সম্প্রদায়ের ওপর না পড়ে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর, দোকান ও মন্দির পরিদর্শন করে সকলকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।