অস্ত্র সমর্পণের জন্য ইসরায়েলি সরকারের দেওয়া আল্টিমেটাম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস।
সোমবার জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুচস জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হামাস অস্ত্র সমর্পণ না করলে গাজায় নতুন করে যুদ্ধ শুরু হতে পারে। এ খবর প্রকাশ করেছে Al Jazeera।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামাসকে ৬০ দিনের মধ্যে সব ধরনের অস্ত্র—এমনকি একে-৪৭ রাইফেলও—সমর্পণ করতে হবে। সময়সীমা নির্ধারণে মার্কিন প্রশাসনের অনুরোধ ছিল বলেও দাবি করা হয়। অন্যথায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
তবে হামাস এ দাবি নাকচ করেছে। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাবি বলেন, এ ধরনের দাবির বিষয়ে তার কোনো আনুষ্ঠানিক ধারণা নেই। নেতানিয়াহু ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেওয়া এসব বক্তব্য কেবল হুমকি; চলমান আলোচনায় এর কোনো ভিত্তি নেই।
নতুন করে যুদ্ধ শুরুর যেকোনো হুমকি ‘এ অঞ্চলের জন্য গুরুতর পরিণতি বয়ে আনবে’ বলেও সতর্ক করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, ফিলিস্তিনিরা কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছে। তবে গাজায় ইসরায়েলি দখল অব্যাহত থাকলে অস্ত্র ত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়েছে হামাস।
চলতি মাসের শুরুতে গাজার বাইরে অবস্থানরত হামাসের রাজনৈতিক নেতা খালেদ মেশালও ফিলিস্তিনি সংগঠনগুলোর অস্ত্র জমা দেওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তার মতে, কোনো দখলকৃত জাতির কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নিলে তারা সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় এবং সহজেই দমন বা ধ্বংস করা যায়।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়