1. info@www.media71bd.com : NEWS TV : NEWS TV
  2. info@www.media71bd.com : TV :
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন

অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাংক খাত সংস্কার: প্রতিশ্রুতি বড়, বাস্তবায়ন সীমিত

ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—ব্যাংক খাত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর ঘোষিত সংস্কার এজেন্ডার কেন্দ্রবিন্দু ছিল ব্যাংক খাত। খেলাপি ঋণে ভরা, রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত ও মালিকানা ঘনীভূত এই খাত পুনর্গঠন করা হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব। তবে দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও কাঠামোগত সংস্কারের মূল স্তম্ভগুলো এখনও অনুমোদনের অপেক্ষায়।

প্রতিশ্রুতি বনাম বাস্তবায়ন
সরকার দুটি আইনকে ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল—১) বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা, ২) ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামো সংস্কার (ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন)। কিন্তু এই দুটি আইন এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়। অর্থাৎ প্রকৃত সংস্কার শুরু হওয়ার কথা ছিল যেখান থেকে, সেখানেই আটকে আছে প্রক্রিয়া।

সংকট ব্যবস্থাপনার আইন পাস, সংস্কার হয়নি
অন্তর্বর্তী সরকার এখন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছে—ব্যাংক রেজুলিউশন ও ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স। এগুলো মূলত সংকট মোকাবিলার উপকরণ, কিন্তু কাঠামোগত সংস্কার নয়। খারাপ ব্যাংক সামাল দেওয়ার উপায় ও আংশিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলেও, কেন ব্যাংক দুর্বল হচ্ছে বা কে দায়ী—এসব প্রশ্ন অনির্ধারিতই থেকে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন: কাগজেই সীমাবদ্ধ
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন—আইন ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা কার্যত কাগজে। ১৯৭২ সালের সংশোধনী খসড়া প্রায় চার মাস আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এতে বোর্ড থেকে তিন জন সরকারি কর্মকর্তাকে বাদ দেওয়া এবং গভর্নরের মর্যাদা শক্ত করার প্রস্তাব ছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আপত্তির কারণে আইন অনুমোদিত হয়নি।

আইএমএফের চাপ, কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতা
আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে। ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় আইএমএফ কারিগরি সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি; দায়িত্ব ভবিষ্যতের সরকারের ওপর স্থগিত রাখা হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন: মালিকানায় লাগাম
সংস্কারের খসড়ায় ৪৫টি সংশোধনী প্রস্তাব ছিল—বোর্ডের সদস্য সংখ্যা কমানো, অর্ধেক স্বাধীন পরিচালক, বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ, একাধিক ব্যাংকে ৫% এর বেশি শেয়ার না রাখার বিধান। এগুলো ছাড়া খেলাপি ঋণ, অভ্যন্তরীণ লুটপাট ও প্রভাবশালী মালিকদের দৌরাত্ম্য থামানো সম্ভব নয়।

মালিকদের আপত্তি, সরকারের নীরবতা
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) মালিকানা সীমা ‘বিনিয়োগ নিরুৎসাহক’ বলে দাবি করেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এটি ক্ষমতার প্রশ্ন। আইন পাস না করে পরবর্তী সরকারের ওপর দায়িত্ব ছোঁড়া মানে দায় এড়ানোর কৌশল।

পাঁচ ব্যাংক একীভূতকরণ: সংস্কার না সময় কেনা
সরকার পাঁচ দুর্বল ব্যাংক একীভূত করেছে। ফলে ব্যাংকের সংখ্যা কমেছে, প্রশাসনিক ব্যয় নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আতঙ্ক সামলানো গেছে। কিন্তু মূল সমস্যাগুলো—খেলাপি ঋণ, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল বোর্ড, মালিকানার ঘনীভূতকরণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সীমিত ক্ষমতা—অপরিবর্তিত। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি “bad banks merged into a bigger bad bank” হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ঝুঁকি বেড়েছে রাষ্ট্র ও আমানতকারীর
একীভূত ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তারল্য সহায়তা ও রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। অর্থাৎ ক্ষতির দায় শেষ পর্যন্ত পড়ছে করদাতার ও সাধারণ আমানতকারীর ওপর।

সংস্কার ছাড়া একীভূতকরণ টেকসই নয়
সংশ্লিষ্টদের মতে, কার্যকর সংস্কারের জন্য প্রয়োজন ছিল—ব্যাংক কোম্পানি আইনের কঠোর সংশোধন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন, দায়ী পরিচালক ও ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা, পেশাদার বোর্ড। এই কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া একীভূতকরণ হয়েছে, কিন্তু ব্যাংক খাত সুস্থ হয়নি।

More News Of This Category

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়

ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট
error: Content is protected !!