চট্টগ্রাম বন্দরে ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো (সিপিএ স্কাই)’ উদ্বোধনকে স্মার্ট ও পেপারলেস বন্দর ব্যবস্থাপনার পথে এক ঐতিহাসিক অগ্রযাত্রা হিসেবে উল্লেখ করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান।
মঙ্গলবার দুপুরে বন্দর ভবনের বোর্ড রুমে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর আন্তর্জাতিক মানের ডিজিটাল মেরিটাইম লজিস্টিক করিডোরে সরাসরি যুক্ত হলো। এখন কাস্টমসের ইজিএম, আইজিএমসহ প্রি-অ্যারাইভাল প্রসিডিউর এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই সম্পন্ন করা যাবে।
তিনি বলেন, এনবিআর, কাস্টমস ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সব সেবা একত্র করে পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো চালু করা হয়েছে, যা আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছর দেশের মানুষ উপকার পাবে। এটি ভবিষ্যতের দ্বার খুলে দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ফয়েজ আহমদ তৈয়ব। তিনি বলেন, এই সিস্টেম চালুর ফলে বন্দরের কার্যক্রমে তিন থেকে পাঁচ গুণ গতি বাড়বে, যা দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, বিশ্বব্যাপী বন্দরগুলো ডিজিটাল ও অটোমেটেড হয়ে গেলেও বাংলাদেশ লজিস্টিক ডিজিটাল করিডোরে পিছিয়ে ছিল। আগে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম ও এনবিআরের অ্যাসাইকুডা থাকলেও প্রকৃত অর্থে কোনো পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো ছিল না। নতুন এই পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেমে সব সংস্থা এক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে।
তিনি জানান, আগে যেসব কাজ ফিজিক্যালি বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে করতে হতো, এখন সেগুলো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে। ফলে পাঁচ দিনে হওয়া কাজ এখন আধ ঘণ্টায় শেষ করা সম্ভব হবে। এতে কার্গো ডেলিভারি দ্রুত হবে, জাহাজের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম কমবে এবং বন্দরের পরিবেশ হবে আরও পরিবেশবান্ধব।
বন্দর চেয়ারম্যান আরও বলেন, এখন আমদানি পণ্য জাহাজে ওঠার আগেই অনলাইনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন যেকোনো স্থান থেকে সেবা নেওয়া সম্ভব হবে। বন্দর পুরোপুরি পেপারলেস ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নতুন সিস্টেমে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে ডেলিভারি বিলম্ব ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। এখন কার্গো হ্যান্ডলিং থেকে শুরু করে সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
তিনি জানান, পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডোর জন্য হেল্প ডেস্ক ও এজেন্ট ডেস্ক চালু থাকবে এবং ন্যূনতম সার্ভিস চার্জ নির্ধারণ করা হবে। একটি মাত্র লগইনের মাধ্যমে সব বন্দরসেবা গ্রহণের সুযোগ থাকবে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিপিএ স্কাইয়ের মাধ্যমে ডিজিটাল রাডার ও অটোমেটেড ভেসেল ট্র্যাকার ব্যবহার করে জাহাজের অবস্থান সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যাবে। আমদানি–রপ্তানিকারকরা এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই সব অনুমোদন ও কার্গো ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করতে পারবেন। এনবিআর, ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি ডাটা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসা সহজীকরণ নিশ্চিত হবে।
উদ্বোধনী দিনের ড্যাশবোর্ড তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে বার্থ ইউটিলাইজেশন ৬৭ শতাংশ। মোট ২১টির মধ্যে ১৪টি বার্থ সচল রয়েছে এবং সিস্টেমে একযোগে ১২৮টি জাহাজ ট্র্যাক করা হয়েছে।
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয়