আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম হবেন বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনি প্রস্তুতি—এই দুই বাস্তবতার ভারসাম্য রক্ষা করাই তার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে মানুষের চোখেমুখে প্রত্যাশা দেখেছেন। এর মধ্যেই দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায় তার মায়ের মৃত্যু হয়। নির্বাচনের ব্যস্ততার কারণে পারিবারিক শোক ভাগ করে নেওয়ার সুযোগও পাননি। তবে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক—এই দুই চ্যালেঞ্জ মোটামুটিভাবে মোকাবিলা করতে পেরেছেন বলে মনে করেন তিনি।
আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ও প্রথমবার ভোটারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে তরুণদের পাশাপাশি বয়স্ক, প্রতিবন্ধী এবং নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও কর্মসূচি রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, দেশ গঠন করতে হলে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়েই এগোতে হবে।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থি কোনো চুক্তি হলে যে দেশের সাথেই হোক না কেন স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হবে। কারণ তিনি দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চান।
ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীনের বাড়তি আগ্রহ নিয়ে প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্ব একটি ‘গ্লোবাল ভিলেজ’। দেশের মানুষের স্বার্থ যেখানে বজায় থাকবে, সেসব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ভালো থাকবে।
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য করে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি জনগণের রায়ে এককভাবেই সরকার গঠনে সক্ষম হবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী। একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, রাজনীতিতে শেষ পর্যন্ত জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। যাকে মানুষ গ্রহণ করে না, সে শক্তি প্রয়োগ করেও ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না—৫ আগস্ট তার উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুর্নীতি এবং ব্যাংক ঋণখেলাপি হওয়া এক বিষয় নয়। রাজনৈতিক হয়রানির কারণে বিএনপির বহু ব্যবসায়ী নেতাকর্মী ন্যায্য ব্যাংক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, ফলে অনেক ক্ষেত্রে ঋণখেলাপি হয়ে পড়াটা স্বাভাবিক পরিস্থিতির ফল।
গুম, খুন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিচার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এটি একটি সভ্য রাষ্ট্রে অগ্রহণযোগ্য। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বা যুক্ত নন—যে কেউ অন্যায়ের শিকার হলে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
©সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০২৬
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও হুবহু ব্যবহারযোগ্য দণ্ডনীয়